মালদা

জেলা পরিষদের ৩৮ টি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ৫৬ জন, দলের ভেতরে গোষ্ঠী কোন্দল !

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদা জেলা পরিষদের ৩৮ টি আসনে নিমিনেশন জমা করেছেন ৫৬ জন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু শাসক দল তৃণমূল এদের মধ্যে থেকে ৩৮ জন প্রার্থীকে দলের প্রতীক দিবে। ফলে কারা প্রতীক পাবে তা নিয়ে প্রার্থীদের মনে শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে এই নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দলের অন্দরে।

        চাঁচল- ২ নম্বর ব্লকের ১৬ নম্বর আসনে তৃনমুলের হয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে দুই জন প্রার্থী। দলের পুরনো কর্মী মহম্মদ আনোয়ার হোসেনও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অভিযোগ জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘনিষ্ঠ রফিকুল ইসলাম একই আসনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। ফলে প্রার্থী বাছায় নিয়ে দেখা দিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে প্রবল গোষ্ঠী কোন্দল। একই অবস্থা রতূয়া ১ নম্বর ব্লকের ২০ নম্বর আসনে। সেখানেও পুরোনো কর্মী প্রোমদ প্রসাদ দাসের পাশাপাশি তৃনমুল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছে এক মহিলা। যদিও গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয়টি মানতে নারাজ জেলা তৃনমুল নেতৃত্ব।

        কিন্তু এই সমস্ত ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ১৬ নম্বর আসনে দাঁড়ানো দলের পুরনো কর্মী মহম্মদ আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তারা বহু বছর ধরে তৃণমূল করে আসছেন। যুব তৃণমূলের সভাপতি পদে আসিন ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুব তৃণমূলের জেলা সম্পাদক। কিন্তু দলের জেলা সভাপতি ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে সেখান থেকে প্রার্থী হিসেব দার করাবেন, কিন্তু বিগত দিনে তিনি তার কথা ভুলে যান, আর সেই আসনে সভাপতি তার নিজের আত্মীয়কে দার করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। যার কারনে তিনি এলাকাবাসী ও জনসাধারণের চাপে নমিনেশন জমা করেন।

        এই ঘটনায় রতূয়া ১ নম্বর ব্লকের ২০ নম্বর আসনে দাঁড়ানো তৃণমূল কর্মী প্রোমদ প্রসাদ দাসের দাবী, তিনি তৃণমূলের কার্যকারী সভাপতি বাবলা সরকারের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন। সেই সময় তার বায়োডেটা দেখে জেলা সভাপতি তাকে প্রার্থী করার কথা জানান। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় দেখা গেল তার আসনে এক মহিলা প্রার্থীকে দার করানো হয়েছে।

        পাশাপাশি দলের মধ্যে বাড়তে চলা এই প্রার্থী অসন্তোষের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি বাবলা সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন দেখে মালদা জেলার অবজারভার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহু মানুষ তৃণমূলে যোগদান করেন। বহু কর্মী প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে বেশ কিছু কর্মী দলের প্রার্থী ঘোষণার আগেই তারা নিজেরাই মনোনয়ন জমা করেছেন। তবে দল তাদের সাথে আলোচনা করে তাদের মধ্য থেকে ৩৮ জনকেই দলের চিহ্ন দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। যদিও এতে গোষ্ঠী কোন্দল বাড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/JNG9yYDeeAE